Posts

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো।

 ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের পিছনে দার্শনিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু, রুশো, ভলতেয়ার, ডেনিস দিদেরো প্রমুখ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ফরাসি বিপ্লবে মন্তেস্কুর অবদান: ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্ত বিখ্যাত গ্রন্থ 'দা স্পিরিট অফ লজ'। এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি রাজার 'স্বর্গীয় অধিকার তত্ত্ব' নীতির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে 'দ্য পারসিয়ান লেটারস'-এর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন, শাসন ও বিচারবিভাগকে পৃথক করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য ধনবণ্টন ও ভোটাধিকারের দাবি করেন। ফরাসি বিপ্লবে ভলতেয়ারের অবদান: ভলতেয়ার ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সের একজন যুক্তিবাদী দার্শনিক। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'কাঁদিদ'-এর মাধ্যমে ফরাসি গির্জার দুর্নীতি কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও অনাচারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তার ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলেন। ফরাসি বিপ্লবে রুশোর অবদান: অষ্টাদশ শতক ছিল...

ফরাসি বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা আলোচনা করো?

  ফরাসি বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা ফরাসি বিপ্লবে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিচে তাদের ভূমিকার প্রধান দিকগুলো দেওয়া হলো: রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ: নারীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্লাব ও সভায় অংশগ্রহণ করত। বিশেষ করে প্যারিসের "সোসাইটি অফ রেভল্যুশনারি রাইটস অফ উইমেন" এর মতো সংগঠন গড়ে তুলেছিল। বিক্ষোভ ও মিছিল: নারীরা খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও অভাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিল। ১৭৮৯ সালের অক্টোবর মাসে প্যারিসে "ওমেনস মার্চ অন ভারসাই" নামে একটি বিখ্যাত মিছিল হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার নারী ভারসাই প্রাসাদে গিয়ে রাজা ও রাণীকে শহরে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। আইনি ও সামাজিক অধিকার চাওয়া: নারীরা সমান অধিকার ও ভোটাধিকার দাবি করেছিল। ওলাম্প দে গুজ (Olympe de Gouges) নামক একজন নারী "দ্য ডিক্লারেশন অফ দ্য রাইটস অফ উইমেন অ্যান্ড সিটিজেন" (Declaration of the Rights of Woman and the Female Citizen) লিখেছিলেন, যা নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সামাজিক পরিবর্তনে অবদান: নারীরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছিল। বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজে না...

MOTIUR TUTORIAL CENTRE

MOTIUR TUTORIAL CENTRE  DAFARPUR, MURAPARA, RAGHUNATHGANJ, MURSHIDABAD  CONTACT - 9933773579 / 9775674188 MOTIUR RAHAMAN  MOSIUR RAHAMAN   এখানে যত্নসহকারে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টিউশন পড়ানো হয়। 👉 B.A, B.SC,  M.A, D.EL.ED ও B.ED প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত। 👉 দীর্ঘ ১০ বছরের পড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষক। 👉 5E MODEL প্রয়োগ ও বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে  শিক্ষা দেওয়া হয়। 👉 ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিটি বিষয়ের জটিল অংশ গুলি সহজ ও সরল ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, প্রয়োজনে রেমেডিয়াল ক্লাস করানো হয়। 👉 ইংরেজি ও অংক বিষয় দুটির অতিরিক্ত  অভ্যাস করানো হয়। 👉 ভুগোল, ইতিহাসের ম্যাপ পয়েন্টিং সহ  প্রাক্টিক্যাল ক্লাস করানো হয়। 👉 প্রতিটি ক্লাসের  সিলেবাস নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা সহ নৈতিক, সামাজিক ও চারিত্রিক শিক্ষা প্রদান ও মোটিভেশনাল স্পিচ দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করা হয়। 👉 নিয়মিত অধ্যায় শেষে  অফলাইন ও অনলাইনে মক টেস্ট নেওয়া হয়। 👉 প্রয়োজন বিশেষে বিষয় ভিত্তিক  নোটস / সাজেশন  দেওয়া হয়। 👉 নির্দিষ্ট সময় অনু...

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি কি? Class- Nine

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি মূলত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কারণের সমন্বয়ে গঠিত। নিচে প্রধান কারণগুলি আলোচনা করা হলো: ভার্সাই চুক্তির কঠোরতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির উপর আরোপিত ভার্সাই চুক্তি অত্যন্ত কঠোর ছিল। এতে জার্মানিকে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দিতে হয় এবং তাদের সামরিক শক্তি সীমিত করা হয়। এই চুক্তি জার্মানির মধ্যে অসন্তোষ ও প্রতিশোধের মনোভাব সৃষ্টি করে। অর্থনৈতিক মন্দা ও মহামন্দা (Great Depression) ১৯২৯ সালের মহামন্দার ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। অনেক দেশ দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সম্মুখীন হয়, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উগ্রবাদী মতাদর্শের উত্থান ঘটায়। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা জার্মানি, ইতালি ও জাপান মত দেশগুলো তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করে। তারা নিজেদের শক্তিশালী করার জন্য অন্য দেশগুলোতে আক্রমণ চালায়। ন্যাশনাল সোশালিস্ট পার্টির উত্থান (নাজি পার্টি) হিটলারের নেতৃত্বে নাজি পার্টি জার্মানিতে ক্ষমতায় আসে এবং তারা জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির মাধ্যমে যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে। অপর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈত...

নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল কেন? অথবা, নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল কেন?

 ভূমিকা নেপোলিয়ন প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ সেনা নিয়ে রাশিয়া অভিযান করেন (২৪ জুন, ১৮১২ খ্রিস্টাব্দ), কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ হাজার সৈন্য, বিরাট অপমানের বোঝা ও ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ➡ ব্যর্থতার কারণ: ১) নেপোলিয়নের দম্ভ:   নেপোলিয়ন ক্ষমতার দম্ভে বাস্তববোধ ও সম্ভব অসম্ভবের সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি রুশ দুর্গকে বালির তৈরি দুর্গ ও বুশ জারকে অযোগ্য ও অপদার্থ বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন। নিঃসন্দেহে এটা ছিল একটি মারাত্মক ভুল। ২) পোড়ামাটি নীতি:  ফরাসি সৈন্যরা রাশিয়ার ভিতর   প্রবেশ করলে রুশ সেনারা পিছিয়ে যায় ও পোড়ামাটি নীতি নেয় যা ছিল ফরাসি বাহিনীর জন্য মরণ ফাঁদ।  ৩) রাশিয়ার বিশাল আয়তন:  দু-একটি ঝটিকা আক্রমণ বা  সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করে রাশিয়া জয় করা সম্ভব ছিল না, কারণ রাশিয়া ছিল বিরাট দেশ। অজগর সাপ যেমন তার শিকারকে মুখে ধরে তার বিরাট উদরে চালান করে হজম করে, রুশ সেনাপতি কুটুজভ তেমনি যুদ্ধ করার ভান করে যুদ্ধে না-গিয়ে পিছু হঠতে থাকেন। নেপোলিয়ন তাঁর পিছু নিয়ে রাশিয়ার উদরে ঢুকে পড়েন। ফলে...

প্রশ্ন: ২ নেপোলিয়ন কীভাবে ফ্রান্সের ক্ষমতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন? Class- IX, HISTORY

 * উত্তর »  ভূমিকা: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফ্রান্সের গোলন্দাজ বাহিনীর সহকারী লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দিয়ে ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের সম্রাটরূপে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রেক্ষাপট: নেপোলিয়ন  তাঁর সামরিক কৃতিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে ফ্রান্সের মেজর জেনারেল হন।  তিনি ইটালি, অস্ট্রিয়া ও পোপকে পরাজিত করে নিজের জনপ্রিয়তা তুলে ধরেন।  মিশর অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে প্রাথমিক সাফল্য লাভ করলেও ব্যর্থ হন এবং ফ্রান্সে ফিরে আসেন (১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দ)। ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা: ফ্রান্সে ফিরে এসে- ডাইরেক্টরি শাসনের উচ্ছেদ: ফ্রান্সের অভ্যন্তরেডাইরেক্টরি শাসন দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে নেপোলিয়ন ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্সে কনসুলেট শাসনব্যবস্থা চালু করেন (৯ নভেম্বর, ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দ)। কনসুলেট শাসন: কনসুলেট শাসনব্যবস্থা অনুসারে ফ্রান্সের প্রশাসন ব্যবস্থার তিনজন কনসালকে নিয়ে গঠিত এক প্রশাসকমণ্ডলীতে নেপোলিয়ন প্রথম কনসাল হিসেবে নিজের হাতে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। এরপর আজীবন কনসাল (১৮০২ খ্রিস্টাব্দ) হিসেবে নিযুক্ত হন।  সাত সম্রাট রূপে নেপোলিয়ন: অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে রাজতন্ত্রীদের...

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা করো।

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা কর।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি  নিম্নে আলোচনা করা হলো- প্রত্যক্ষ কারণ : সেরাজেভো হত্যাকান্ড :- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফিয়া বসনিয়া সফরে এলে সেরাজেভো শহরে এক এক বসনিয়ার এক বিপ্লবী ছাত্র কর্তৃক নিহত হন  ২৮ শে জুন ১৯১৪ তারিখে। এই ঘটনার জন্য সার্বিয়াকে দায়ী করে অস্ট্রিয়া এক চরমপত্র পাঠায়। কিন্তু সার্বিয়া নিজের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে এমন কিছু দাবী মানতে অস্বীকার করে এবং আলোচনার প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়া ২৮ শে জুলাই সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড আক্রমণ করে। এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শক্তিগুলি পরস্পর মিত্র শিবিরে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ফলে শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ। উগ্র জাতীয়তাবাদ :- বিভিন্ন কারণে উনিশ শতকের শেষ দিকে ও বিংশ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করতে থাকে এবং সেই দাবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল নীতি গ্রহণ করে। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশ , এমনকি রাশিয়া , জাপান - ইত্যাদি দেশের মধ্যেও এই উগ্র ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ লক্ষ্য করা য...