প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা করো।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা কর।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো-
প্রত্যক্ষ কারণ : সেরাজেভো হত্যাকান্ড :-
অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্দিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফিয়া বসনিয়া সফরে এলে সেরাজেভো শহরে এক এক বসনিয়ার এক বিপ্লবী ছাত্র কর্তৃক নিহত হন ২৮ শে জুন ১৯১৪ তারিখে। এই ঘটনার জন্য সার্বিয়াকে দায়ী করে অস্ট্রিয়া এক চরমপত্র পাঠায়। কিন্তু সার্বিয়া নিজের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে এমন কিছু দাবী মানতে অস্বীকার করে এবং আলোচনার প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়া ২৮ শে জুলাই সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড আক্রমণ করে। এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শক্তিগুলি পরস্পর মিত্র শিবিরে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ফলে শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ।
উগ্র জাতীয়তাবাদ :- বিভিন্ন কারণে উনিশ শতকের শেষ দিকে ও বিংশ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করতে থাকে এবং সেই দাবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল নীতি গ্রহণ করে। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশ , এমনকি রাশিয়া , জাপান - ইত্যাদি দেশের মধ্যেও এই উগ্র ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ লক্ষ্য করা যায়। এইভাবে পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ এবং জাতিগত বৈরিতা বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি রচনা করে।
অতৃপ্ত জাতীয়তাবাদ :- ফরাসি বিপ্লবের ফলে তিনটি নতুন আদর্শের জন্ম হয় - সাম্য , মৈত্রী ও স্বাধীনতা। এই নতুন আদর্শের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবোধের প্রসার ঘটে। কিন্তু ভিয়েনা সম্মেলন এই নতুন আদর্শের প্রসারের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন জাতির জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতার স্পৃহা অতৃপ্ত থেকে যায়। এই অতৃপ্ত জাতীয়তাবাদের প্রকাশ ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে।
পরস্পর - বিরোধী শক্তিজোট :- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে গড়ে ওঠা পরস্পর বিরোধী শক্তিজোট ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। প্রধানতঃ দুটি পরস্পর বিরোধী শিবিরের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর শক্তিগুলি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
(ক) একটি জোট ছিল ত্রিশক্তি চুক্তি জোট। জার্মানির প্রধানমন্ত্রী বিসমার্কের উদ্যোগে জার্মানি , অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে এই জোট গঠিত হয়। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্রান্সকে অবদমিত রাখা।
(খ) দ্বিতীয় জোট ছিল ত্রিশক্তি আঁতাঁত। ইংল্যান্ড , ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিশক্তি আঁতাঁত গঠিত হয়। এই জোট তৈরী হয় ত্রিশক্তি চুক্তির বিরোধী হিসেবে। এই দুই পরস্পর শক্তিজোট প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে।
বলকান জাতীয়তাবাদ :- পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলে অটোমান তুর্কিদের শাসনকালে বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন জাতি স্বাধীনতার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। বার্লিন চুক্তিতে বসনিয়া প্রদেশটি জোর করে অস্ট্রিয়ার সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু সার্ব জাতিভুক্ত বসনিয়া সার্বিয়ার সাথে যুক্ত হতে চেয়েছিল। এর প্রতিবাদে বসনিয়াতে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়।
Mosiur Rahaman, M.A HISTORY
Comments
Post a Comment